চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কী?
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ইন্ডাস্ট্রি ৪.০

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা Fourth industrial revolution  বাক্যটি ইদানিং আমরা প্রায়ই বিভিন্ন মিডিয়ায় শুনে থাকি। এটিকে শিল্প ৪.০ ও বলা হয়।  আজকের আলোচনায় আমরা সহজ সরল ভাষায় এই বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করবো। মূলত আধুনিক  প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে শিল্পের  প্রোডাক্টশনকে বুঝানো হয়। 

পূর্বের তিনটি শিল্প বিপ্লব

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকক্রমে পূর্বের তিনটি শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

প্রথম শিল্প বিপ্লব

প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৮ শতকে। প্রথম শিল্প বিপ্লবে শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে বিষয়টি শুরু হয়েছিল সেটি হলো স্টীম ইঞ্জিন। তাছাড়াও এনার্জি সোর্স হিসেবে কয়লার ব্যবহার শুরু হয়। আগে যেখানে কৃষি ভিত্তিক অর্থনৈতিক মডেল ছিল সেখানে শিল্প ভিত্তিক অর্থনেতিক মডেলের সূচনা হয়।

দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব

উনিশ শতকের শেষের দিকে দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবে ব্যাপকভাবে উন্নতর মেশিনারিজ এর ব্যবহার শুরু হয়। যে বিষয়টি এখানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে সেটি হলো এনার্জি সোর্স হিসেবে বিদ্যুতের ব্যবহার। তাছাড়াও খনিজ তেলের ব্যবহার শুরু করা হয়। ফলে ব্যাপক হারে শিল্পের উৎপাদনে নতুন ইকোনমিক মডেল তৈরী হয়।

তৃতীয় শিল্প বিপ্লব

১৯৪০ এর দিকে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়। মূলত এই সময়টায় ইনফরমেশন টেকনোলজির উন্নয়ন শিল্প ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে। ইন্টারনেট বেজড কমিউনিকেশনের সূচনা হয়। তাছাড়াও রিনিউএবল এনার্জি’র ব্যবহার শুরু হয়। এই শিল্প বিপ্লবে স্মার্ট গ্রিডের মাধ্যমে এনার্জি বিতরণ শুরু হয়।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কী?

বর্তমানে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনা লগ্নে রয়েছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে মূল বিষয়টি হলো ডিজিটাল-ড্রাইভেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং প্রোডাকশন। ইনোভেটিভ এবং লেটেস্ট প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মার্কেটের ডিমান্ড অনুযায়ী স্মার্ট ডিশিসন বেজড অটোমেটিক প্রডাকশন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রয়োজনে উৎপাদন বেশী হয় বা কম হয়। এক্ষেত্রে  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা , বিগ ডাটা প্রসেসিং এর মতো প্রযুক্তিসমূহ ইন্টিগ্রেট করা হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো স্বয়ংক্রিয়তা, ভার্চুয়ালিটি এবং মেশিনারিজের বিকেন্দ্রিকরণ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নানাবিধ সুবিধা রয়েছে- যেমন অধিক উৎপাদন, নিরাপদ উৎপাদন, কোয়ালিটি উৎপাদন ইত্যাদি। 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ব্যবহৃত প্রযুক্তিসমূহ:

  •  আওটি বা Internet of Things (IoT) :  ইন্টারনেট অব থিংস এমন একটি টেকনোলজি যেটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তুকে ইন্টারনেট এর সাথে সংযোগ স্থাপন করার সুবিধা দেয়। উদাহরন স্বরূপ বলা যেতে পারে- অফিসে বসে আপনি আপনার বাসার সিলিং ফ্যান টি বন্ধ করে দিতে পারবেন যে টি হয়তো আপনি ভুলে বন্ধ করে আসেননি। 
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটিকস এর ব্যবহার: ‍কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ কাজসমূহ খুব সহজেই অটোমেটিক্যালি সম্পাদন করা হচ্ছে। 
  • বিগ ডাটা: বিগ ডাটা প্রসেসিং এর মাধ্যমে বিজনেস স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ, ভোক্তাদের চাহিদা এবং ট্রেন্ড এনালাইসিস এবং সে অনুযায়ী উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
  • অগমেন্টেড এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি: এর মাধ্যমে পণ্যের সাথে ভোক্তাদের রিয়েল লাইফ এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করা হয়। বর্তমানে অনেক সময় ডিজিটাল মার্কেটিং-এ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
  • ক্লাউড কম্পিউটিং:  এডমিনিস্ট্রেশন, ডাটাবেজ, স্টোরেজ, রিপোর্টিংসহ সকল কিছু সার্ভার বেজড। এটি সিকিউরড এবং ডিসেন্ট্রালাইজড। 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিষয়গুলি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আমাদের বাংলাদেশেও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় প্রতিযোগিতার এই মাকের্টে পিছে পড়ে থাকতে হবে। 

Leave a Reply