Latest Digital Marketing Trends
Latest Digital Marketing Trends

ডিজিটাল মার্কেটিং এর আধুনিক প্রযুক্তিসমূহ

 ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে খুবই পরিচিত একটি বিষয়। অনলাইন এবং সোস্যাল মিডিয়ায় মানুষের অবাধ বিচরণ এই ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় করে তুলেছে। বর্তমানে অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ডিজিটাল মার্কেটারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।  আজকের আলোচনায় গতানুগতিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর পদ্ধতি নয় বরং আধুনিক কিছু প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করব যা ডিজিটাল মার্কেটিং এর বর্তমান পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর আধুনিক প্রযুক্তি

সাধারণত ডিজিটাল মার্কেটিং এর পদ্ধতি বলতে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যম যেমন ই-মেইল ক্যামপেইন, ‍ফেসবুক বা গুগলে এ্যাড প্রচার, এসইও, ‍বাল্ক এসএমএস প্রেরণ ইত্যাদি পদ্ধতিতে পন্য বা সার্ভিসের প্রচারণাকে বুঝায়। বর্তমানে অনেক প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়েছে যার ব্যবহার পন্য বা সার্ভিসের প্রচার, প্রসার বা কনভার্সনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তো চলুন দেখা যাক সেই প্রযুক্তি গুলি কী, কিইবা তার ব্যবহার। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয়।  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মার্কেটারদের ডেটা বিশ্লেষণ, ইউজারদের ফিডব্যাক এনালাইসিস ইত্যাদি কাজগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ  অবদান রাখছে। এআই-চালিত চ্যাটবটগুলি তাত্ক্ষণিক গ্রাহক সহায়তা প্রদান করে, ব্যবহারকারীর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দিয়ে ওয়েবসাইট ভিজিটরকে গ্রাহকে রূপান্তর করছে।  ফলে বিপুল পরিমান লিড জেনারেশনের পাশাপাশি সেলস বৃদ্ধিতে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম বিপণনকারীদের বিপুল পরিমাণ ডেটা থেকে মূল্যবান সারমর্ম তৈরি করতে, ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত নিতে এবং রিয়েল-টাইমে ক্যামপেইনসমূহ অপ্টিমাইজ করতে সহায়ক হয় ৷

ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন

এখনকার যুগের নেটিজেনরা মোবাইলে কোন কিছু সার্চ করার ক্ষেত্রে টাইপ করার চেয়ে ভয়েস কমান্ড দিতেই বেশী সাচ্ছন্দ ফিল করে।  সিরি, অ্যালেক্সা এবং গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সাথে ভয়েস সার্চের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।  তাই পন্যের বা সার্ভিসের বিপণন বৃদ্ধির জন্য ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রোডাক্ট সম্পর্কিত লং-টেইল কীওয়ার্ড এবং কথোপকথনমূলক কনটেন্ট   ভয়েস ভিত্তিক অনুসন্ধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।  সর্বোপরি ব্যবসাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে ভিজিটর বা ইউজারদের নিকট পৌছে দিতে প্রোডাক্ট সমূহের ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন করা সময়ের দাবী।

ভিডিও ভিত্তিক মার্কেটিং

 ভিডিও কনটেন্ট-এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিজিটাল মার্কেটিং-এ ভিডিও তৈরী একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।   ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে সংক্ষিপ্ত আকারের ভিডিওগুলি পন্যের ব্র্যান্ডিং-এ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।  লাইভ স্ট্রিম ফিচারটিও অডিয়েন্স রিচ করতে সহায়তা করে।   ইমেল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন  এবং ওয়েবসাইটে ভিডিও অন্তর্ভুক্ত করা ভিজিটরদের  এক্সট্রা মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তাই ট্রাফিকস বৃদ্ধি, কনভার্সনরেট বৃদ্ধির জন্য ভিডিও তৈরী এবং প্রচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ডিজিটাল মার্কেটারদের প্রয়োজন হাই-কোয়ালিটি, প্রাসঙ্গিক ভিডিও তৈরি করা ।

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কী? আপনি এক বন্ধুকে নিয়ে শপিং-এ গেলেন। বন্ধু বলল এই ব্র্র্যান্ডের এই প্রোডাক্টটি কিনতে পারিস। আপনিও সেটি কিনলেন। এখানে আপনার বন্ধুর ০৩ টি বিষয় থাকতে পারে (আবার নাও থাকতে পারে)। ১.পূর্ব অভিজ্ঞতার বিশ্বাস বা আস্থা, ২. আপনি যে প্রোডাক্টটি কিনলেন তার সাথে এফিলিয়েশন অথবা ৩. প্রোডাকটির একটি বাই-প্রোডাক্ট রয়েছে (সে টিকেও আপনাকে কিনতে হবে) যার সাথে তার এফিলিয়েশন। সরাসরি ভোক্তার দ্বারা মার্কেটিং করাটাই মূলত  ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং। আবার ধরুন বন্ধুকে নিয়ে কোন রেস্টেুরেন্টে গেলেন, দেখলেন এখানে ফ্রি ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়। ওয়াই-ফাই কানেক্ট করে একটু চেক-ইন স্টেটাস দিয়ে দিলেন। রেস্টুরেন্ট এখানে আপনের দ্বারা একটু ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং করে নিল।  তবে এক্ষেত্রে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের কোয়ালিটি নিশ্চিত করা,  জনপ্রিয়তা বা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করার বিষয়াদি জড়িত রয়েছে।

অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR)

অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তিগুলি ব্র্যান্ড-এর  সাথে গ্রাহক বা ভোক্তাদের যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে ৷ আপনি অনলাইনে একটি দেয়াল ঘড়ি কিনতে চাচ্ছেন। সেই ঘড়িটি আপনের দেয়ালে লাগালে কেমন দেখা যাবে সেটি যদি কিনার আগেই যাচাই করতে পারেন তাহলে কেমন হয়? আর হ্যা,  AR এর মাধ্যমে আপনি সেটিই ইমাজিন করতে পারবেন। ফলে  কেনাকাটার বিষয়টি আরোও প্রাণবন্ত হবে।  আবার ধরুন আপনি কোথাও ঘুরতে যাবেন। হোটেল বুকিং দিবেন। কিন্তু হোটেলের রুমগুলি কি রকম হয় বা না হয় সেটি জানার জন্য  VR প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘুরে আসতে পারেন।  অবশ্য সেই হোটেলকে এরকম যাচাইয়ের বিষয়টি ডেভেলপড করতে হবে। সর্বোপরি অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তিগুলি বিপণনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।  ভার্চুয়াল শোরুম, পণ্যের ডেমো এবং ইন্টারেক্টিভ  অভিজ্ঞতা তৈরি করতে এই প্রযুক্তিগুলি সহায়ক হবে । 

উপসংহার

প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে ভোক্তাদের পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়গুলিও পরিবর্তন হচ্ছে।  প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ব্যবসাগুলিকে অবশ্যই সর্বশেষ ডিজিটাল বিপণনের ধারণা বা প্রযুক্তিগুলি প্রয়োগ করতে হবে। টার্গেটেড অডিয়েন্সের সাথে সংযোগ স্থাপন,  ফলোআপ প্রসেস মেইনটেইন করে ক্লায়েন্টে রুপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় টুলস-এর ব্যবহার করতে হবে। তবেই  ব্যবসাসমূহ ডিজিটাল ক্ষেত্রে উন্নতি এবং দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে

মতামত এবং শেয়ারিং আশা করছি। ধন্যবাদ।

Leave a Reply